বর্তমান সময়ঃ- 5 June, 2020

যে আবিষ্কার কেড়ে নিয়েছে আবিষ্কারকদের প্রাণ।

প্রত্যেক আবিষ্কারকই তার আবিষ্কার নিয়ে গর্ববোধ করেন। আবিষ্কারক মাত্রই তার আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে অমরত্ব ল্যাব করতে চান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, পৃথিবীতে এমন বেশ কয়েকজন আবিষ্কারক রয়েছেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, নিজেদের আবিষ্কার করা জিনিসের হাতে।

হেনরি উইন্সটেনলিআবিষ্কার

হেনরি উইন্সটেনলি একজন বিখ্যাত ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ার। যিনি প্রথম এডিস্টন বাতিঘর নির্মাণ করেন। প্রাথমিক রেকর্ড হিসেবে এটি সম্পন্ন করতে হেনরির দশ বছর সময় লেগেছিল। এটি একটি বানিজ্যিক দর্শনার্থি আকর্ষন ছিল। যা ১৬৯৬ সালের বিস্ময়কর ব্যারেল সহ সরঞ্জামগুলির একই অংশ থেকে গরম ও ঠান্ডা পানিয় সহ দর্শকের সেবা প্রদান করে, যা চিরস্থায়ী ঝরনা, অটোমেটা এবং সমস্ত ধরনের চিত্তাকর্ষক প্রক্রিয়াগুলি সমন্বিত করেছিল। নিজের তৈরি এই বাতিঘর নিয়ে ভদ্রলোক খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং প্রচন্ড ঝড়েও এই বাতিঘর ধংশ হবে না বলে তিনি অহংকার করে বেড়াতেন।আবিষ্কার

১৭০৩ সালে ২৭ নভেম্বর, দিনটি ছিল খুব মেঘলা, বড়সরো একটি ঝড় সাগর থেকে ধেয়ে আসতে দেখলে হেনরি সবাইকে বলে বেড়ালেন তিনি তার নির্মিত বাতিঘরে সেই রাত থাকবেন এবং প্রমাণ করে দিবেন এই ঝড় তার বাতিঘরের কোন ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। সেই রাতে হেনরি এবং তার ৫ সহকারি নিয়ে বাতিঘরে থাকার জন্য প্রস্তুতি নেন। আর সেই অনুযায়ী তারা বাতিঘরে অবস্থান নেন। অবশেষে প্রচন্ড ঝরে বাতিঘরটি সম্পূর্ণ ধংশ হয়ে যায়, আর তারা সবাই সেখানে মৃতুবরণ করেন।

রানথ রিচার্ডআবিষ্কার

ফ্রান্সে বসবাসকারী রানথ রিচার্ড একজন দর্জি ছিলেন। উদ্ভাবক এবং প্যারাচিউটিং অগ্রদূত, যা কখনো কখনো ফ্লাইং টেইলার নামে পরিচিত। ভদ্রলোক একটি ওভার কোটের নকশা তৈরি করেছিলেন। যা একই সঙ্গে প্যারাসুটের মত কাজ করে, প্রাথমিক অবস্থায় পোষাকটি ব্যবহার করে বহুতল ভবনের উপর থেকে পরীক্ষা চালিয়ে তিনি সফল হন, এরপর তার এই অদ্ভুদ পোষাক আরো পরিমার্জিত করে তিনি নিজেই আইফেল টাওয়ার থেকে লাফিয়ে, তার তৈরি ওভারকোট কামপ্যারাসুটের পরীক্ষা করতে চেষ্টা চালান। বন্ধুদের বারন ও পুলিশের বাধা ফেরিয়ে অবষেশে ১৯১২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি আইফেল টাওয়ার থেকে ওভারকোটটি পরে ৫৭ মিটার (১৮৭ ফুট) উপর থেকে তিনি নিচে ঝাপিয়ে পরেন। কিন্তু ওভারকোটটি পেরাসুটের মত তখন আর কাজ করেনি, প্যারাশুট স্থাপনায় ব্যর্থ হন তিনি এবং নিচে বরপের মধ্যে পরে মারাত্তক ভাবে আহত হন এই ভদ্রলোক। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেরদিনই মারা যান তিনি।

অটো লিলেনথাল

বাতিঘর

লিলেনথালকে রিভিশনের অগ্রদূত বলা হয়, গ্লাইডরের অর্থাৎ ইঞ্জিনবিহীন বিমান আধুনিকায়ন ও উড্ডয়নে তিনি এতটাই পারদর্শী ছিলেন যে, লোকে তাকে গ্লাইডার কিং বলে বেশি ডাকত। গ্লাইডারদের সাথে ডকুমেন্ট, পুনরাবৃত্তি, সফল ফ্লাইট তৈরির প্রথম ব্যাক্তি ছিলেন।

বাতিঘর

সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনগুলো লিলেনথাল গ্লাইডিং্যের ফটোগ্রাফ প্রকাশ করেছে, উরন্ত মেশিন গুলো ব্যবহারিক হওয়ার সম্ভবানা সম্পর্কে জনমত ও বৈজ্ঞানিক মতামতকে অনূকূল্ভাবে প্রবাবিত করেছে। ৯ আগষ্ট ১৮৯৬ সালে তিনি নিজের তৈরি একটি গ্লাইডরে করে উড়ার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ১৭ মিটার (প্রায় ৫২ ফুট) নিচে পড়ে যান, এবং তার মেরুদন্ড ভেঙ্গে যায় এবং পরের দিন মারা যান, ১০ আগস্ট ১৯৮৬ সালে।

ভেলেরিয়ান এবাকোবোস্কি

গ্লাইডারে

এরোকারের উদ্ভাবক তিনি, এটিকে এরো ওয়াগুণও বলা হত, যা ছিল মূলত বাষ্প চালিত, প্রপেলার চালিত রেলকার, রেলওয়ে নির্বাহীদের সাইবিরিয়ার বিস্তার্ণ ভূমি দ্রুতগতিতে পার করার জন্য এটি বানানো হয়েছিল।বাতিঘর

১৯২১ সালের ২৪ জুলাই পঁচিশ বছর বয়সি এবাকোবোস্কি টুলা থেকে মস্কের উদ্যেশ্যে ২২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে রওনা করেন, য়ার তখনি দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে তিনি সহ সকলেই নিহত হন।

আমার আজকের আর্টিকেল এখানেই সমাপ্ত এরকম আরোও ইতিহাস বিষয়ক পোস্ট পেতে ভিসিট করুন বাংলাপেনে

আরোও কিছু পোস্ট

 বিশাল রহস্য ঘেরা স্থান চলুন জেনে আসা যাক সমুদ্রের কিছু অজানা তথ্য নিয়ে

মতমেন কি? জেনে নেই রহস্যময় এক বার্তাবাহক প্রাণির সম্পর্কে

মৎস্যকন্যা সম্পর্কে জানতে চান চলুন এ নতুন অভিযানে

ইতিহাস : চলুন ফিরে যাই প্রাচীন সভ্যতায় ঐতিহাসিক যুগ সম্পর্কে বিস্তারিত

Share
Js Tawhida

I’m just human, I have weakness, I make mistakes and I experience sadness; But I learn from all these things to make me a better person.

5 Comments

  1. ইনাদ ইসলামইনাদ ইসলাম

    এতোদিন কই ছিলেন ভাই? অনেক দিন পর উইঠা আসলেন। যাক আবার দেখে ভালো লাগতেছে এতোদিন অনেক কষ্ট হইছে। রেগুলার পোস্ট করেন ধন্যবাদ ❤

      1. ইনাদ ইসলামইনাদ ইসলাম

        এই ওয়েবসাইট টি একটি ব্লগার সাইট। এই সাইটের যে এডমিন সে থিমের আসল নাম টা চেইঞ্জ করে তার সাইট নাম বসিয়ে দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে আর কোন পসিবিলিটি নেই৷ এর নাম বের করার। আপনার কোন থিম লাগলে আপনি বলতে পারেন আমরা তা দিতে পারবো ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ ❤

Leave a Reply