বর্তমান সময়ঃ- 5 June, 2020

ইতিহাস ২য় পর্ব: মিসরিয় সভ্যতা এবং প্রাচীন মিসরের ভৌগোলীক অবস্থান

পিরামিড

আসসালামুলাইকুম,

সবাই কেমন আছেন?আশা করি আমার গত আরটিকেলটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে ,গত আর্টিকেলটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও এই আর্টিকেলও ভালো লাগার কথা এই আর্টিকেলটি গত আর্টিকেলেরই ২য় পর্ব মিসরিয় সভ্যতা

আগের পোস্ট পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

মিসরিয় সভ্যতা এবং প্রাচীন মিসরের ভৌগোলীক অবস্থানঃ

প্রাচীণ সভ্যতার ভিত্তিভূমি হিসেবে বিবেচিতে মিসরের অবস্থান আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে।দেশটির উত্তরে ভুমধ্য সাগর এবং পূর্ব-উত্তরে রয়েছে আরব মরুভুমি ও পশ্চিম দিকে বর্তমান লিবিয়া।নীলনদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মিসর ২ ভাগে বিভক্ত।

মিসরিয় সভ্যতা

মিসর নীলনদের দানঃ

মিসরিয় সভ্যতা

হোয়াঙহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হলেও নীলনদকে মিসরের দান হিসেবে অভিহিত করা হয়্‌।কেননা মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীলনদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিলো। এ কারণেই মিসরকে নীলনদের দান বলা হয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, নীলনদকে কেন্দ্র করে কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশুপালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয়কে মাথায় রেখে নীলনদের তীরবর্তী অঞ্ছলসমুহে বসতি স্থাপন করেছিল।বন্যার সময় গাছ-গাছড়া পচে গিয়ে এবং এর সাথে জলধারায় পাহাড়ি লাল পাথুরে মাটি মিশে এক উর্বর পলি মাটির সৃষ্টি হতো।তাই গ্রিক ঐতিহাসিক ও ইতিহাসের জনক হেরোডটাস মিসরের উৎকর্ষ দেখে বিস্মিত হয়ে নির্দ্বিধায় মিসরকে ‘নীলনদের দান’ বলে উল্লেখ করেন।

সভ্যতায় মিসরিয়দের অবদানঃমিসরিয় সভ্যতা

 ধর্মঃ

মিসরীয় চিত্রকলা,স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে দেখা যায় যে,প্রাক্রিতিকে শক্তিকে প্রাচীন মিসরিয়রা দেবতা মেনে পুজা করত।প্রাচিন মিসরীয়রা বিশ্বাস করতো যে, প্রক্রিতিকে দেবদেবীরাই নিওন্ত্রন ও চালনা করে থাকে।তারা বিশ্বাস করতো যে সূর্যের দেবতা ‘রা’বা ‘রে’ দেবদেবীদের রাজা।তিনি প্রধান দেবতা হিসেবে অন্য দেবতাদের নিওন্ত্রন করেন।পরবর্তীতে তা রুপান্তরিত হয়ে ‘আমন’ বা ‘আমন রে’।‘রা’ছিল মিসরিয়দের প্রধান দেবতা। আরও প্রচুর দেবদেবী মিসরিয়দের ধর্মবিশ্বাসে জড়িত ছিলেন।এদের মধ্যে ওসিরইস ও আইসিস ছিলেন অন্যতম।প্রাচীন মিসরীয়রা ফারাওদের স্বর্গের প্রতিনিধি হিসেবে ভাবত এবং তাদের দেবতার আসনে বসিয়ে পুজা করত ।তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। পৃথিবীতে তারা যে পাপ বা পুন্য করেছে দেবতা ওসিরিসের সামনে এর জবাবদিহিতা করতে হবে।এ সময় পাপ পুন্যের বিচারের মাধ্যমে পুণ্যবানকে সুখময় স্থানে এবং পাপীকে অন্ধকার ঘরে নিক্ষেপ করা হবে।সূর্যদেবতা ‘রা’ তীব্র রশ্মি দিয়ে পাপীর দেহকে ঝলসে দেবে।মিসরিয় সভ্যতার অবস্থানের যুগে মিসরীয় ধর্মে নানা কুসংস্কার যুক্ত হয়। ে সময় পুরোহিতরা নিজের ও শাসকের সুবিধার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করতে থাকে।এ অবস্থার অবসানের জন্য ফারাও চতুর্থ আমেনহতেপ এগিয়ে আসে।তিনি মন্দির থেকে অসৎ পুরহিতদের বের করে দেন।তিনি সূর্য দেবতা ‘আমন’ ‘রে’ বা ‘রা’ এর নতুন নাম দেন এঁটোন ।দেবতাদের সাথে মিল রেখে নিজের নাম দেন ইখটান। বিখ্যাত ফারাও টুটেন খামেন পুরোহিতদের অধিকার ফিরিয়ে দেন ও মিসরে আবার কুসংস্কার ছেয়ে যায়।এভাবেই ধীরে ধীরে মিসরীয় ধর্ম অবক্ষয়ের চুরান্ত পর্যায়ে এসে দাড়ায় ।

আজকের জন্য এখানেই বিদায় নিচ্ছি । মিসরের পিরামিডের কাহিনী সম্পর্কে জানতে আমার নেক্সট আর্টিকেলের জন্য সাথে থাকুন বাংলাপেনের,আল্লাহ হাফেজ

Share
Js Tawhida

I’m just human, I have weakness, I make mistakes and I experience sadness; But I learn from all these things to make me a better person.

One Ping

  1. Pingback: ইতিহাস পর্ব ৩:প্রাচীন মিশরের স্থাপত্যশিল্প পিরামিড ভাস্কর্য এবং চিত্রকলা - বাংলাপেন

3 Comments

Leave a Reply