বর্তমান সময়ঃ- 5 June, 2020

ইতিহাস পর্ব ৩:প্রাচীন মিশরের স্থাপত্যশিল্প পিরামিড ভাস্কর্য এবং চিত্রকলা

আসসালামুয়ালাইকুম সবাই কেমন আছেন তো আপনারা সবাই পোস্টটির টাইটেল দেখেই  ভালো করে বুঝতে পারছেন,আজকে আমি প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার ৩য় পর্ব লিখছি.আমার পোস্ট এর অপেক্ষা করার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আশা করি এই পোস্টি ও আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।

স্থাপত্যশিল্প

পিরামিডঃ

পিরামিড

মিসরীয়দের ইতিহাসের চমৎকারী নির্মাতা বলা হয়। কেনোনা পাথড় কেটে প্রকাণ্ড সৌধ বানাতে তারা ছিলো সবথেকে সেরা।মিসরিয়দের চমৎকার স্থাপত্যিক নিদর্শন তাদের তৈরি পিরামিডগুলো

মিসরিয়রা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস কড়তো।তারা বিশ্বাস করতো ফাড়াওয়ের মৃত্যুর পর তার আত্মা স্বর্গে চলে যায়,

ফারাওয়ে,পিরামিড

ফারাওয়ে

সেখানে দেবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়।কিন্তু মৃত দেহ পচে গেলে সমস্যা হতে পারে।তাই তারা মৃত দেহকে প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষনের ব্যাবস্থা করতো।এ মৃতদেহগুলোকে যে স্থানে কবর দেওয়া হতো সেসব জায়গা আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হতো।এসব কবরে দেওয়া হতো সিন্ধুক ভর্তি অমুল্য গহনা,ধাতব,দারুন দারুন তৈজস পত্র,মুদ্রা,দামি কাপড় ইত্যাদি দ্বারা।মৃত ফারাওয়ের দেহ ও অনেক মহা মূল্যবান অলংকারের নিরাপত্তার জন্য প্রাচীন মিসরিয়রা বড় বড় পাঁথেরর খন্ড কেটে এসব পিরামিড নির্মাণ করেছিল,পিরামিড গুলো ছিলো জ্যামিতিক ত্রিভুজ আক্রিতিতে তৈরি উঁচু একটি সমাধি সৌধ।

প্যাল্টাজনেট সমারসেট ফ্রাই (দ্য হিস্ট্রি অব দ্য ওয়ার্ল্ড)-এর বর্ণমাতে, জোসের প্রথম ফাড়াওয়ের কবরে গড়ে ওঠেছে প্রথম পিরামিড।এ পিরামিডের নাম ‘স্টোভ পিরামিড’।

ইসহোটেপ নামে এক প্রভাবশালী ভাস্কর এ পিরামিডটি প্রস্তুত করেন।এ পিরামিডের উচ্চতা ২০০ ফুট লম্বা।মিসরে আরও অনেক গুলো পিরামিড রয়েছে।এ পর্যন্ত ৮০ টির ও বেশি পিরামিডের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে।যার মধ্যে ৭০ টির ও বেশী কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে।এগুলোর মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত হলো ফাড়াও খুফুর পিরামিড।

পিরামিড

ফাড়াও খুফুর পিরামিডঃ

১৩ একর জমির ওপর নির্মিত এ পিরামিডটির দৈর্ঘ্য ৭৫৫ ফুট ও প্রস্থ ৪৮১ ফুট যা নির্মাণ করতে ১ লখ্য শ্রমিকের ২০ বছর সময় লেগেছিল।পিরামিড সম্পর্কে প্যাল্টাজেনেট সমারসেট ফ্রাই বলেন,‘‘পিরামিড মিসরীয়দের অগ্রগতির প্রশংসাই নয়,এর সাথে জড়িত ছিলো ধর্মীয় বিশ্বাস’’।

ধর্ম মন্দিরঃ

ধর্ম মন্দির পিরামিডঃ

মিসরীয় সভ্যতার মধ্য ও শেষ ভাগে তেমন একটা পিরামিড তৈরি হয়নি।এ সময় মিসরিয়রা পুরোহিতদের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে অনেক বৃহৎ ও সুদৃশ্য ধর্ম মন্দির নির্মাণ করেছে।মিসরের ধর্ম মন্দির গুলোর মধ্যে কর্ণাক ও লাকজোরের মন্দির বিখ্যাত।স্থপতিদের পরিচালনায় নির্মিত এ মন্দির গুলো অত্যন্ত জাকজমজপূর্ণ ভাবে প্রচুর অর্থ ব্যায় করে সাজানো হতো।মন্দিরের ২ পাশে স্ফিংকস মূর্তি এবং সামনে ফাড়াওয়ের মূর্তি রাখা হত।মন্দির চত্বরের শেষভাগে থাকত একটি বিশাল হলঘর।নিবস শহরের প্রধান ধর্ম মন্দিরটির উচ্চতা ছিল ২৩ মিতার।এসব মন্দির দেখে মিসরিয়দের সুন্দর প্রাসাদ নির্মাণ সম্পর্কে নিশ্চিীত হওয়া যায়।

ভাস্কর্যঃ

পিরামিড গড়ার সূত্রেই মিসরে ভাস্কর্য শিল্পের বিকাশ ঘতেছিল।বিভিন্ন সমাধি সৌধ,ধরম্মন্দির,ও প্রাসাদের প্রবেশ পথে ভাস্কর্য বিদ্যমান ছিলো।মূর্তি খোদাই করে মন্দিরের ভেতরের দেয়াল সাজানো হতো।বড় বড় পাথর কেটে চমৎকার সব মূর্তি বানানো হতো।“স্ফিংকস” ছিল মিসরিয় ভাস্কর্যের প্রধান উধাহারন।স্ফিংকসের দেহ ছিল সিংহের আকৃতির প মাথা ছিল ফাড়াওয়েড়।এতে বুঝা যায় যে ফারাও সিংহের মতোই বলবান। ভাস্কর গণ নরম পাথরে মানুষের অবিকল মুরতিও গ্রতেন।ফারাও ইখনাটনরানী নেফারতিতির মূর্তি এর উজ্জ্বল নিদর্শন।

চিত্রকলা ও কারুশিল্পঃ

চিত্রকলা

চিত্রকলা

মিসরের চিত্র শিল্পিরাও পিছিয়ে ছিলেন না।সমাধি আর মন্দিরের দেয়াল সাজাতে গিয়েই চিত্রকলার সুচনা হয়।প্রাচীন মিসরিয় চিত্রশিল্পের নিদর্শন দেখা যায় প্রাচিরে,মমি ও তার কফিনের ওপর।মিসরিয় চিত্রে ধর্মীয় ধারনার প্রকাশ বেশি ছিল।অষ্টাদশ রাজবংশের আমলে থিবসে নির্মিত ল্যাকজোর মন্দিরের গায়ে অসংখ্য দেয়াল চিত্র দেখা যায়।এছাড়া লুক্ররের মন্দিরের গায়ে লতাপাতা ও জ্যামিতক নকশার চিত্রের নিদর্শন লক্ষনিয় ছিল।প্রাচীন মিসরিয়রা কারুশিল্পেও দক্ষ্য ছিল।তারা স্বর্ণ,রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের ব্যাবহার জানতো।এগুলোর সাহায্যে তারা নানা প্রকার তৈজসপত্র তৈরি করতো।মিসরিয় কুমোরেরা বাহারি রঙের চমৎকার মাটির পাত্র,বয়নশিল্পীগণ সুন্দর অলংকার ,চিত্রিত কম্বল,পর্দা এবং কুশন তৈরিতে দক্ষ্য ছিলো।তারা রত্নপাত,সুগন্ধি রাখার কৌটা, নানা রকম অলংকার ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরিতেও দক্ষ্যতার পরিচয় দিয়েছিলো।

আজকের জন্য এখানেই বিদায় নিচ্ছি।খুব শীঘ্রই নিয়ে আসবো আপনাদের জন্য আরও একটি ইন্ট্রেস্টিং পোস্ট।আশা করি আমাদের সাইটের পোস্ট গুলো নিয়মিত পড়বেন ও সাথে থাকবেন বাংলাপেনের

আল্লাহ হাফেজ।😇

আমার আরোও কিছু পোস্ট

ইতিহাস : চলুন ফিরে যাই প্রাচীন সভ্যতায় ঐতিহাসিক যুগ সম্পর্কে বিস্তারিত

ইতিহাস ২য় পর্ব: মিসরিয় সভ্যতা এবং প্রাচীন মিসরের ভৌগোলীক অবস্থান

ইউ এফ ও কি? ভিনগ্রহের এক অদ্ভুত প্রানির অস্তিত্ব

Share
Js Tawhida

I’m just human, I have weakness, I make mistakes and I experience sadness; But I learn from all these things to make me a better person.

Leave a Reply