বর্তমান সময়ঃ- 5 June, 2020

ইতিহাস : চলুন ফিরে যাই প্রাচীন সভ্যতায় ঐতিহাসিক যুগ সম্পর্কে বিস্তারিত

আসসালামুয়ালাইকুম

সবাই কেমন আছেন, আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন।তো আজকের পোস্টটির টাইটেল দেখে বুঝতেই পারছেন আমি কী নিয়ে লিখছি।আমরা অনেকেই প্রাচীন সভ্যতা সম্প্পর্কে খুব বেশী জানিনা।কারণ আমরা এই বিষয়ে তেমন একটা ইন্ট্রেস্ট খুজে পাই না.আমাদের কাছে পিরামিড শব্দটা খুব ইন্ট্রেস্টিং মনে হয়।তো পিরামিড জানতে হলে আগে আমাদের প্রাচীন সভ্যতা সম্পর্কে জানতে হবে।

প্রাচীন সভ্যতা

প্রাচীন সভ্যতা(Ancient Civilizatio)

পরিবর্তনীয় মানব ইতিহাসে ধাপে ধাপে যে কৃষ্টী দানা বেঁধে উঠেছে তাই সভ্যতা নামে পরিচিত।মানব সৃষ্টির সূচনা পর্ব থেকেই মানব বিকাশ শুরু হয়। সভ্যতার মাধ্যমে কোন দেশ বা অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর বহমান মনমানসিকতা, চিন্তা চেত,  শিক্ষা-সংস্কৃতি,ভাবনা বিলাস ও দৈনিন্দিন জীবন-যাত্রার বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে।বস্তুত দীর্ঘকালের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আধুনিক সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে।আর মানব সভ্যতার বিকাশের এ ধারাকে  ঐঐতিহাসিকগণ কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন।যথাঃ-

পুরোপলীয় যুগঃ প্রাচীন সভ্যতা

ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ও বৈজ্ঞানিক কার্যকারণগুলো মাধ্যমে জানা যায় ১০,০০০,০০০,০০০ বছর অতিক্রম করে আমরা আজকে সভ্যতার এ পর্যায়ে উপনীত  হয়েছি।এ অবিশ্বাস্য বিশাল সময়ে পৃথবীতে মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিলো এখন থেকে ২০ লক্ষ বছর পূর্বে। এ সময়ের মানুষকে আদিম মানুষ বলা হয়।এরা ফসল ফলাতে জানতো না,তাই তারা প্রকৃতির উপর নির্ভর ছিল।তারা ধীরে ধীরে শিকার করতে ও আগুন জ্বালিাতে শিখে।শিকারের প্রয়োজনে অস্র বানাতে শিখে।তারা পাথর কেটে অস্র বানাতো তাই এ কাল্কে পাথরের যুগ বা পুরোপলীয় যুগ বলে।

প্রাচীন সভ্যতা

নবোপলীয় যুগ বা প্রাগৈতিহাসিক 

নবোপলীয় যুগে মানুষ জীবন ধারিনের জন্য শিকারের উদ্যেশে একস্থান থেকে অন্য স্থানে  যাযাবরের ন্যায় ঘুড়ে বেড়াতে থাকতো।এ পর্যায়ের শেষপ্রান্তে এসে মানুষ কৃষির আবিষ্কার শেখে।তাই এ সময়কে নবোপলীয় যুগ হিসেবে অভিহিত করে।এর পর মানুষ দলবদ্ধ হয়ে থাকতে শুরু করে। তাদের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটে এবং গ্রামের সৃষ্টি হয়। এ পর্যায়ে তারা পশুকে বশ করা শেখে।এ যুগে মানুষের অনেক উন্নতি হয় কিন্তু লিখতে শিখে না বলে এ যুগকে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলা হয়।আধুনিক ঐতিহাসিক ও গবেষকগণ এ যুগের সময়কাল ৫০০০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ থেকে ১০০০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ মনে করেন।

সভ্যতার যুগ বা ঐতিহাসিক যুগঃ

প্রাগৈতিহাসিক যুগের অবসানের মধ্য দিয়ে সভ্যতার যুগ বা ঐতিহাসিক যুগের সূচনা ঘটে। সভ্যতার সংজ্ঞা ব্যাপক। জার্মান দার্শনিক অসওয়ার্ড স্পেগলার মনে করেন, মানুষের উৎকর্ষ সাধিত কৃষ্টি ব সংস্কৃতির চুড়ান্ত রূপ হলো সভ্যতা।সভ্যতার যুগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট ছিল।প্রথমটি হলো “লিপির আবিষ্কার” ও দ্বীতিয়টি হচ্ছে “নগর সভ্যতার সৃষ্টি”

কৃষি আবিষ্কার এর দ্বারা মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করতে থাকায় এ সময় গড়ে উঠে গোত্র ও কৌমব্যবস্থাও উন্নত হতে থাকলে গ্রাম সস্কৃতির ব্যবহার। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন গতিশীল হয়,তেমনি সমাজব্যবস্থাও উন্নত হতে থাকলে গ্রাম সংস্কৃতির পত্তন ঘটে এবং নগরসভ্যতার যাত্রা শুরু হয়।আনুমানিক খ্রীস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ থেকে নগরসভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল। কোনো সভ্যতার সূচনা প্রথম হয়েছিলো তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটি বিষয় নিশ্চিত যে প্রায় কাছাকাছি সময়ে নদীকে কেন্দ্র মিসরীয় সভ্যতা,  মেসো পটেমীয় সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা, চৈনিক সভ্যতা প্রভৃতি সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিলো।পরবর্তীকালে মানবসভ্যতা বিকাশিত হলে এর সাথে যুক্ত হয়েছিলো ফিনিশীয় সভ্যতা, হিব্রু সভ্যতা, গ্রিক সভ্যতা, রোমান সভ্যতা ও পারসিক সভ্যতার মতো অন্যান্য সভ্যতাগুলো।

আজকের জন্য এখানেই বিদায় নিলাম। পরবর্তি সিরিজ এর জন্য অপেক্ষা করুন প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে ২য় PART খুব তারাতারি আসছে একটিভ থাকুন বাংলাপেনে

Share
Js Tawhida

I’m just human, I have weakness, I make mistakes and I experience sadness; But I learn from all these things to make me a better person.